বিয়ের কেনাকাটা করে আরেক প্রেমিককে নিয়ে সুমনকে খু*ন করে আন্নি

 

বিয়ের কেনাকাটা করে আরেক প্রেমিককে নিয়ে সুমনকে খু*ন করে আন্নি   


শেরপুরে ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়েছেন কলেজছাত্র। নিখোঁজের সাত দিন পর সোমবার (১১ নভেম্বর) মধ্যরাতে শহরের সজবরখিলা এলাকার একটি বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রেমিকা আন্নি ও তার আরেক প্রেমিক রবিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত কলেজছাত্রের নাম সুমন মিয়াকে (১৭)। সে শেরপুর পৌরসভার কসবা বারাকপাড়া (নিমতলা) এলাকার কৃষক মো. নজরুল ইসলামের ছেলে। সুমন শেরপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় প্রেমিকা আন্নি ও তার আরেক প্রেমিক রবিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে সোমবার সকালে সুমনের বাবা নজরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় আন্নি ও তার বাবাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আরেক প্রেমিক রবিনের তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে রবিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের দেয়া তথ্যমতে জানা গেছে, শেরপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সুমন মিয়া। একই কলেজের সহপাঠী আন্নি আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের দুজনের একাধিক ছবি পাওয়া গেছে। তবে, সুমন ছাড়াও একই সময়ে ময়মনসিংহ নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী রবিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় আন্নি। এক পর্যায়ে সুমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে রবিন ও আন্নি। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য স্বীকার করেছে রবিন। 

এদিকে গত ৪ নভেম্বর বিয়ের কথা বলে সুমনকে ডেকে আনার পর প্রথমে শহরে বিয়ের কেনাকাটা সম্পন্ন করে আন্নি। এরপর বিকেলে শহরের সজবরখিলা এলাকায় রবিনের বাসায় এনে সুমনকে হত্যার পর মাটি চাপা দেয়া হয়। 

সুমনকে নির্মমভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি স্বজন ও স্থানীয়দের। সুমনের খালা কল্পনা বলেন, সুমনকে আমি আমার ছেলের মতো করে বড় করেছি। ওর কোনো আবদার আমি ফেলাইনি। আমরা অনেক বুঝাইছি, এই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য। আজকে এই ডাইনিটা আমার সুমনরে হত্যা করল। আমি এই হত্যার বিচার চাই। 


পরিবারের তথ্যমতে, এসএসসি পরীক্ষায় একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়ার সময় থেকই সুমন ও আন্নির পরিচয় হয়। পরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ালে দুজনই একই কলেজে ভর্তি হয়।
এদিকে সুমনের নিখোঁজের ঘটনায় শেরপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে খুঁজে পেতে সহায়তা চাওয়া হয়। পরে সোমবার রাতে মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের পক্ষ থেকে বিচারের দাবি তুলেন সদস্যরা।

শেরপুরের পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি প্রেম ঘটিত বলেই মনে হচ্ছে। তবে আমরা সুমনকে জীবিত উদ্ধার করতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ করছি। তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে আরও অনুসন্ধানের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ