ছাত্রলীগ করে ওরা কোটিপতি

ছাত্রলীগ করে ওরা কোটিপতি



 দেশের ইতিহাস ছাত্ররাজনীতির অন্যতম প্রাচীন সংগঠন, ছাত্রলীগ। দেশের সনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদগুলোতে যারা ছিলেন, সবাই এখন বড় ব্যবসায়ী কিংবা শিল্পপতি। ধনী পরিবারের সন্তান হিসেবে নয়, ছাত্রলীগের পদবীকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার গল্প তাদের। কিভাবে রাতারাতি অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে উঠেছেন তারা, এ নিয়ে সবার মাঝেই নানা গুঞ্জন শোনা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যারা এখন নামীদামী ব্যবসায়ী। তাদের বিপুল সম্পদের উৎস কোথায়, সে প্রশ্নের জবাব কেউ দিতে পারে না। আবার এমন অনেকেই আছেন, যারা ছাত্রলীগের বড় পদ ছাড়াও ক্যাম্পাসে মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে জড়ানোর পর গডফাদার বনে যান। জড়িয়ে পড়েন অস্ত্র ও টেন্ডারবাজিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বসে চাঁদাবাজি আর হলের কক্ষ দখল নিয়ে ক্ষমতা দাপিয়ে বেড়াতেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পেছন থেকে ঢাবি ছাত্রলীগের অনেক নেতার মাদক ব্যবসা আর অস্ত্রের ঝনঝনানির গুঞ্জন ভেসে আসত। সেসব এখন অতীত। তবে ছাত্ররাজনীতিতে লুটপাটের এ সংস্কৃতি রয়ে গেছে এখনও। সাবেকরা ছেড়ে দিলেও তাদের অনুসারীরা এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন বরাবরই এসব দেখেও না দেখার ভান করে।


ছাত্রলীগ নেতাদের কেউ কেউ ক্যাম্পাসের বড় পদে থেকে টেন্ডারবাজি করেছেন। কেউ আবার বড় নেতার আশীর্বাদে নিজের ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। একেকজনের এখন আড়াল ব্যবসায় বহুতল ভবন থেকে শুরু করে অনেক সম্পদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল করিম ২০১২ সালে শিক্ষার্থীদের টাকার উৎস চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি। তার পরদিনই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও উপাচার্যের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ